অফিসের এই নিস্তব্ধ সন্ধ্যাটা যেন প্রতি রাতে রাহুল আর প্রিয়ার জন্য এক গোপন অভিসার তৈরি করত। দিনের কোলাহল শেষে, যখন একে একে সবাই বাড়ি ফিরে যেত, তখন কর্পোরেট করিডোরের আলো-আঁধারিতে রাহুল আর প্রিয়া একে অপরের জগতে ঢুকে পড়ত। প্রিয়ার কফি কাপের ধোঁয়া আর রাহুলের ল্যাপটপের আলো—এই দুটো জিনিসই তখন অফিস ঘরে প্রাণ সঞ্চার করত।
আজও অন্যথা হয়নি। প্রিয়া তার ডেস্কে বসে শেষ রিপোর্টটা দেখছিল। রাহুল তার কাজ শেষ করেও উঠছিল না, মুগ্ধ চোখে প্রিয়াকে দেখছিল। কাঁধ পর্যন্ত নেমে আসা খোলা চুল, কপালে লেপ্টে থাকা কয়েকটা এলোমেলো লতানো গুচ্ছ, আর গভীর মনোযোগে ঠোঁট কামড়ে ধরা প্রিয়ার সেই পরিচিত ভঙ্গিটা রাহুলের হৃদয়ে এক মিষ্টি যন্ত্রণা জাগাত। “কাজ শেষ?” রাহুল অবশেষে নীরবতা ভাঙল, তার গলায় এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা।
প্রিয়া মাথা তুলে তাকাল। “প্রায়। আর কিছুক্ষণ।” তার ঠোঁটে একফালি হাসি, যেন সে রাহুলের এই তাকিয়ে থাকা উপভোগ করছে। “তোমার শেষ?”
“আমার তো কবেই শেষ,” রাহুল মৃদু হাসল। “শুধু তোমার শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম।” কথাটা শুনে প্রিয়ার গাল হালকা লালচে হলো, কিন্তু সে কিছু বলল না। এই নির্জন অফিসে এমন সরাসরি কথা বলা নতুন নয়। ছোট ছোট কথার আদান-প্রদান থেকেই তাদের মধ্যে এক অদৃশ্য টান তৈরি হয়েছে। অফিসের অন্য সহকর্মীরা হয়তো তাদের পেশাদারিত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই মৃদু আকর্ষণ টের পেত না, কিন্তু তারা দু’জন খুব ভালোভাবেই জানত, তাদের মধ্যে এক ভিন্নরকম কিছু ঘটছে। এটি যে শুধু একটা সাধারণ সহকর্মী সম্পর্ক নয়, বরং এক অসাধারণ **অফিসে রোমান্টিক লাভ স্টোরি**।
প্রিয়া চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল, ল্যাপটপ বন্ধ করতে করতে রাহুলের ডেস্কের দিকে এগিয়ে এল। “অপেক্ষা কেন? তুমি তো চলে যেতে পারতে।”
রাহুল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রিয়ার খুব কাছে এল। এত কাছে যে, প্রিয়ার চুলের মৃদু গন্ধ রাহুলের নাকে এসে লাগল। প্রিয়ার চোখে চোখ রেখে রাহুল বলল, “কেন জানি না, মনে হয় এই অফিসের সন্ধ্যাগুলো তোমার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ না কাটালে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।” রাহুলের গলার স্বর নিচু, গভীর এবং আবেগে ভেজা। প্রিয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হতে শুরু করল। এই নৈকট্য, এই অনুভূতি, সবকিছুই যেন তাকে সম্মোহিত করে ফেলছিল।
“আ-আমিও,” প্রিয়া ধরা গলায় বলল। “আমারও একা একা চলে যেতে ভালো লাগে না।” তাদের মাঝে এক বৈদ্যুতিক নীরবতা নেমে এল। রাহুলের হাত অজান্তেই প্রিয়ার কোমরের কাছে চলে গেল, কিন্তু স্পর্শ করল না। শুধু কাছাকাছি থাকার অনুভূতিটাই যেন তাদের ডুবিয়ে দিচ্ছিল এক অবর্ণনীয় আবেশে।
হঠাৎ করেই অফিসের প্রধান আলো নিভে গেল, শুধু জরুরি আলোর আবছা রেশটুকু রইল। প্রিয়া চমকে উঠল, আর সেই সুযোগে রাহুল নিজের অজান্তেই প্রিয়াকে আরও কাছে টেনে নিল। প্রিয়ার উষ্ণ শরীর রাহুলের বুকে ছুঁয়ে গেল। “মনে হয় পাওয়ার কাট,” রাহুল ফিসফিস করে বলল, তার শ্বাস প্রিয়ার কানের কাছে উষ্ণ স্পর্শ রাখল।
প্রিয়ার সারা শরীর শিরশির করে উঠল। এই প্রথম তারা একে অপরের এত কাছে। আবছা আলোয় রাহুলের চোখ দুটো যেন আরও গভীর দেখাচ্ছে। প্রিয়া নিজেকে রাহুলের বাহুতে সঁপে দিতে চাইছিল, কিন্তু কোথায় যেন এক অদৃশ্য বাধা তাকে আটকে রাখছিল। রাহুলের ঠোঁট প্রিয়ার কপালে আলতো করে ছুঁয়ে গেল। “আমি জানি এটা ঠিক নয়… কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি, প্রিয়া।”
প্রিয়া চোখ বন্ধ করে রাহুলের বুকে মাথা রাখল। “আমিও রাহুল, আমিও।” এই অফিসেই তাদের **রোমান্টিক লাভ স্টোরি** যেন আজ এক নতুন মাত্রা পেল। তারা একে অপরের উষ্ণতা অনুভব করল। বাইরের পৃথিবী তখন তাদের এই ছোট্ট প্রেমময় জগৎ থেকে বহু দূরে।
আলো ফিরে এল। তারা একে অপরের থেকে সামান্য সরে দাঁড়াল, কিন্তু তাদের চোখ আর হাতে তখনো সেই নৈকট্যের চিহ্ন। প্রিয়ার গালে তখনো লজ্জার লাল আভা। “চলো, আজ আর কাজ নয়,” রাহুল বলল, প্রিয়ার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে। “চলো আজ বাইরে থেকে ডিনার করি, আর এই অফিসে শুরু হওয়া আমাদের **রোমান্টিক লাভ স্টোরি** নিয়ে কথা বলি।”
প্রিয়া রাহুলের হাতে হাত রেখে হাসল। “চলো।” অফিসের নির্জন করিডোর ধরে তারা দু’জন বেরিয়ে গেল, হাতে হাত রেখে, যেখানে তাদের প্রেম আজ এক নতুন দিগন্তে পা ফেলল।
Leave a Reply