অফিসের নীরব করিডোরে হঠাৎই এক ঝলক উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল, যখন রোহান আর দিশার চোখ একে অপরের সাথে মিশে গেল। বাইরে তখন রাতের অন্ধকার গভীর হচ্ছে, কিন্তু তাদের ভেতরে যেন এক নতুন ভোরের আলোর ঝলকানি। রোহান তার কেবিনের দরজার ফ্রেম থেকে দিশাকে দেখছিল, যে তখনও নিজের ডেস্কে কাজ সারছে। ঘড়ির কাঁটা প্রায় আটটা ছুঁয়েছে, অফিসের বেশিরভাগ কর্মীই বাড়ি চলে গেছে। তাদের এই লুকোচুরি প্রেমকাহিনী যেন একটি সত্যিকারের secret office romance short read।
“দিশা, এখনও কাজ করছ?” রোহানের কণ্ঠস্বর নিস্তব্ধতা ভেঙে দিল।
দিশা চমকে উঠল, তার ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ তুলে তাকাল। “হ্যাঁ স্যার। এই তো প্রায় শেষ।”
রোহান মৃদু হেসে ওর দিকে এগিয়ে এল। “স্যার? এত রাতে স্যার ডাকার প্রয়োজন নেই। আমরা প্রায় একা।” তার চোখে এক দুষ্টুমি ভরা আবেদন, যা দিশার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিল।
দিশার ঠোঁটে একফালি হাসি ফুটল, “অভ্যাস… স্যার।” সে ইচ্ছা করেই ‘স্যার’ শব্দটির ওপর জোর দিল।
রোহান ওর ডেস্কের কাছে এসে দাঁড়াল, তাদের মাঝে শুধু ল্যাপটপের টেবিলটা। অফিসের ঠান্ডা বাতানুকূল পরিবেশ সত্ত্বেও দিশা এক অদ্ভুত উষ্ণতা অনুভব করছিল। রোহানের সুগন্ধি তাকে আরও বিহ্বল করে তুলছিল।
“কিছু সাহায্য লাগবে?” রোহান জিজ্ঞাসা করল, তার হাতটা প্রায় দিশার হাতের কাছাকাছি চলে এসেছে।
দিশার আঙুলগুলো কেঁপে উঠল। “না, আমি প্রায় করে ফেলেছি। শুধু… শেষ করার অপেক্ষায়।”
রোহান ঝুঁকে এল, তার উষ্ণ শ্বাস দিশার ঘাড়ে আছড়ে পড়ল। “আমিও তোমার কাজ শেষ করার অপেক্ষায় ছিলাম।” তার কণ্ঠস্বরে এত মাদকতা ছিল যে দিশার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। “জানো, এই অফিসের নীরবতা আমার সবথেকে প্রিয়। কারণ তখন আমি তোমার কাছাকাছি থাকতে পারি, কোনো ভয় ছাড়াই।”
দিশা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। সে উঠে দাঁড়াল, তাদের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে। রোহানের হাত নিঃশব্দে দিশার কোমর ছুঁয়ে দিল। বিদ্যুতের মতো এক শিহরণ বয়ে গেল দুজনের শরীরেই।
“রোহান…” দিশা ফিসফিস করে বলল, তার চোখ রোহানের গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
“উমম?” রোহানের ঠোঁট দিশার কানের কাছে এসে থামল। “কী ভাবছ, দিশা?”
“যদি কেউ দেখে ফেলে?” ভয়ের সঙ্গে এক নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষা মিশে ছিল দিশার কণ্ঠে।
রোহান আলতো করে দিশার চুলের গোছা সরিয়ে দিল। “কেউ দেখবে না। এই সময়টায় অফিস সম্পূর্ণ ফাঁকা। শুধু আমরা দুজন। আর আমাদের এই গোপন গল্প।” সে হালকা করে দিশার কানের লতি ছুঁয়ে দিল। “আমাদের secret office romance short read এর প্রতিটি মুহূর্তই তো এমনই রোমাঞ্চকর।”
দিশা চোখ বুজে ফেলল। রোহানের স্পর্শ তাকে উন্মাতাল করে তুলছিল। তার হাত দিশার কোমরে আরও দৃঢ় হল, এবং সে দিশাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। দিশার হাত আপনাআপনিই রোহানের কাঁধে গিয়ে পড়ল। তাদের বুকের ধুকপুকানি যেন একে অপরের সাথে তাল মেলাচ্ছিল।
“আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না, দিশা।” রোহানের কণ্ঠস্বরে এক গভীর আবেগ।
দিশা তার চোখ খুলল, তার মুখে এক নীরব সম্মতি। রোহান তার ঠোঁট দিশার ঠোঁটের দিকে নামিয়ে আনল। তাদের প্রথম গভীর চুম্বন ছিল উষ্ণ, গভীর এবং তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ভরা। অফিসের ঠাণ্ডা ঘরে তাদের এই প্রেম যেন আগুনের শিখার মতো জ্বলতে শুরু করল। তারা ভুলে গেল আশেপাশের সব কিছু, শুধু ডুবে গেল একে অপরের ভালোবাসার সমুদ্রে।
কয়েক মিনিট পর, যখন তারা একে অপরের থেকে সামান্য সরে এল, দিশার চোখে তখন গভীর প্রেম আর রোমাঞ্চের আভা। রোহান তার কপালে আলতো চুম্বন করল।
“আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে,” দিশা ফিসফিস করে বলল।
“থাকব,” রোহান মৃদু হেসে বলল। “কিন্তু এই গোপন মুহূর্তগুলো আরও বেশি মধুর।” সে দিশার হাত ধরে বলল, “চলো, আজকের কাজটা শেষ করে ফেলি। কাল আবার নতুন করে শুরু হবে আমাদের এই গোপন প্রেম, অফিসের চার দেওয়ালের আড়ালে।” তাদের এই গোপন অভিসার যেন এক অফুরন্ত ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
Leave a Reply