সেদিনের লাইব্রেরিটা যেন শুধু বইয়ের স্তূপ ছিল না, ছিল এক অব্যক্ত আবেগের গুহাপথ। রোহান, একজন সাহিত্যপ্রেমী ছাত্র, তার নোটবুক খুলে বসতেই দেখল প্রিয়াকে। প্রিয়া, কলেজের সবচেয়ে মেধাবী এবং একই সাথে আকর্ষণীয় মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম, বইয়ের শেল্ফের এক কোণায় দাঁড়িয়ে একটা পুরনো উপন্যাস দেখছিল। তাদের চোখাচোখি হতেই প্রিয়ার ঠোঁটে এক ঝলক মিষ্টি হাসি খেলে গেল। রোহানের বুকের ভেতরটা হঠাৎ যেন একটা গরম হাওয়ায় ভরে উঠল।
তাদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ক্লাস প্রেজেন্টেশনের সুবাদে। কিন্তু সেই পরিচয়ের রেশ ধরে যে প্রগাঢ় অনুভূতির জন্ম নেবে, তা হয়তো কেউই ভাবেনি। এরপর থেকে কলেজ ক্যান্টিন হোক বা লাইব্রেরির শান্ত কোণ, রোহান সবসময় প্রিয়ার চারপাশে এক অদৃশ্য আকর্ষণ অনুভব করত। প্রিয়াও যেন রোহানের উপস্থিতিতে কিছুটা সজীবতা খুঁজে পেত। তাদের সেই কলেজ জীবনটা, যা অনেকের কাছেই শুধু পড়াশোনার জায়গা, তাদের জন্য হয়ে উঠেছিল এক **hot college romance story short** এর নিখুঁত প্রেক্ষাপট।
একদিন দুপুরে ক্যান্টিনে প্রিয়া তার বন্ধুদের সাথে গল্প করছিল। রোহান একটু দূরেই বসেছিল। প্রিয়ার বন্ধু মেঘনা, যে রোহান আর প্রিয়ার মধ্যকার নীরব রোমান্সটা টের পেয়েছিল, সে মজা করে বলল, “কি রে প্রিয়া, তোর আজ কি হয়েছে? সারাক্ষণ অন্যমনস্ক?”
প্রিয়া একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “কিছু না তো! কেন বলছিস?”
মেঘনা হেসে বলল, “আমি জানি তোর মনে কি চলছে। চোখগুলো তো আর মিথ্যা বলে না!”
প্রিয়া কিছু বলার আগেই রোহান উঠে এসে তাদের টেবিলে একটা জলের বোতল রাখল। “মেঘনা, তোর জলের বোতলটা টেবিলের ওপর পড়েছিল,” রোহান বলল, তার চোখজোড়া মুহূর্তের জন্য প্রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই এক পলকের দৃষ্টি বিনিময়ই যেন হাজারও অব্যক্ত কথা বলে গেল।
এরপর থেকে তাদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ বেড়ে গেল। দলবদ্ধ প্রজেক্টের বাহানায় তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একসাথে কাটাতো। লাইব্রেরির শেষ বেঞ্চে বসে নোট করা, ক্যান্টিনে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে জীবনের স্বপ্নগুলো ভাগ করে নেওয়া – প্রতিটি মুহূর্তই যেন তাদের দু’জনকে আরও কাছে টানছিল। একদিন সন্ধ্যায়, লাইব্রেরি প্রায় ফাঁকা, শুধু তারা দু’জন একটা রেফারেন্স বই ঘাঁটছিল। রোহানের হাতটা অসাবধানে প্রিয়ার হাতের উপর পড়তেই, একটা বিদ্যুতের ঝলক যেন তাদের দু’জনের শরীরেই খেলে গেল। প্রিয়া হাতটা সরিয়ে নিল না। তাদের দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ যেন হঠাৎ করেই অনেক জোরে কানে বাজতে শুরু করল।
রোহান প্রিয়ার দিকে তাকাল, ওর চোখগুলোয় এক অজানা উত্তাপ। “প্রিয়া,” সে ফিসফিস করে বলল, “আমি… আমি তোমার দিকে তাকানো ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছি না।”
প্রিয়া মৃদু হাসল, তার গালে লালের আভা। “আমিও যে তোমার থেকে খুব একটা আলাদা নই, রোহান।” তার হাতটা আলতো করে রোহানের হাতের ওপর রাখল। তাদের হাতের উষ্ণতা মিশে গিয়ে তৈরি করল এক নতুন আবেগ। এটাই তো সত্যিকারের **hot college romance story short**! সেই নীরব স্বীকারোক্তি যেন লাইব্রেরির নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিল।
পরের দিন সকালের কলেজের সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রোহান প্রিয়ার হাতটা নিজের হাতে নিল। প্রিয়া মাথা নিচু করে হাসল। “আমাদের এই গল্পটা কি কোনোদিন শেষ হবে, রোহান?”
রোহান তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “এটা তো সবে শুরু, প্রিয়া। আমাদের এই **hot college romance story short** কেবল কলেজের চৌহদ্দির মধ্যে আটকে থাকবে না।” তাদের চোখে ছিল অসীম মুগ্ধতা, আর প্রতিটা পদক্ষেপে ছিল নতুন এক ভবিষ্যতের অঙ্গীকার। কলেজের শেষ বেঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রেম কাহিনী যেন নতুন এক যাত্রার পূর্বাভাস দিচ্ছিল, যেখানে প্রতিটি দিন ছিল উষ্ণতায় ভরা এক নতুন অধ্যায়।
Leave a Reply