উষ্ণ প্রতিবেশী প্রণয়: এক ছোট গল্প

সেই প্রথম যখন আরিয়াকে তার পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দায় দেখলাম, আমার নির্জীব জীবনটা যেন হঠাৎ করে এক অজানা উত্তেজনায় কেঁপে উঠলো। ধূসর টি-শার্টে, খোলা চুলে আরিয়া তার টবে জল দিচ্ছিল, আর বিকেল বেলার কমলা রোদ তার ত্বকে যেন এক অলৌকিক আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। আমি অবিনাশ, আমার একঘেয়ে অফিসের কাজ আর রাতের নির্জনতা নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। কিন্তু আরিয়া যেন আমার জীবনকে এক নতুন রঙে রাঙিয়ে দিতে এসেছিল।

কয়েকদিন পর, লিফটে প্রথম কথা হলো। আমি আরিয়াকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম। “নমস্কার, আমি অবিনাশ। পাশের ফ্ল্যাটেই থাকি।” আমি নিজেকে পরিচয় দিলাম।

আরিয়া মিষ্টি হেসে বলল, “নমস্কার, আমি আরিয়া। সম্প্রতি এখানে এসেছি। মনে হচ্ছে আপনার প্রতিবেশী।” তার কণ্ঠস্বর যেন এক নরম সুরের মতো আমার কানে বাজছিল। সেই দিন থেকেই যেন আমাদের অজান্তেই একটা অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা পড়ল।

তারপর প্রায়ই দেখা হতে লাগলো – সকালে হাঁটতে গিয়ে, লিফটে, এমনকি বারান্দাতেও। বারান্দায় যখন সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসত, আমার বুকের ভেতরটা যেন এক উষ্ণ আবেশে ভরে যেত। আমি ভাবতাম, আমার জীবনে কি সত্যিই এমন এক ‘steamy neighbor affair short story’ শুরু হতে চলেছে? আরিয়া যেন আমার সব ভাবনা জুড়ে ছিল। তার হালকা পারফিউমের গন্ধটা যখন হাওয়ায় ভেসে আসত, আমার নিশ্বাস দ্রুত হয়ে যেত।

একদিন সন্ধ্যায়, বৃষ্টি পড়ছিল। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ আরিয়ার গলা শুনলাম, “অবিনাশ, বৃষ্টিটা কেমন লাগছে?”

আমি ঘুরে তাকালাম, “খুব ভালো। আপনিও কি বৃষ্টি ভালোবাসেন?”

“অসীম,” সে বলল, “বৃষ্টির সাথে কফি। এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে?”

আমি হাসলাম, “তাহলে কেন আসবেন না? আমার কাছে অতিরিক্ত কাপ আছে।”

আরিয়া ইতস্তত করে বলল, “আপনার কি অসুবিধা হবে না?”

“একদম না,” আমি বললাম।

কিছুক্ষণ পর কলিং বেলের শব্দ। আরিয়া ভেজা চুলে, একটা নীল শাড়িতে দরজায় দাঁড়িয়ে। তার চোখে এক অদ্ভুত মাদকতা। আমি তাকে ভেতরের দিকে আসতে বললাম। দুজনে বারান্দায় বসে কফি খাচ্ছিলাম, আর বৃষ্টির শব্দ শুনছিলাম। কথা বলতে বলতে কখন যে সময় কেটে গেল, বুঝতে পারিনি। আরিয়ার জীবনের গল্প, তার স্বপ্ন, সবই যেন আমার কানে মধু ঢেলে দিচ্ছিল। আমার হাতটা তার হাতের পাশে ছিল, আর মাঝে মাঝেই আমাদের আঙুল একে অপরের সাথে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। সেই হালকা স্পর্শেই যেন এক তীব্র বিদ্যুৎ তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছিল আমার সারা শরীরে।

আরিয়া বলল, “অবিনাশ, আপনার সাথে কথা বলে খুব শান্তি পেলাম।”

আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমারও। মনে হচ্ছে যেন অনেক দিনের চেনা।”

এক মুহূর্তের জন্য আমাদের চোখাচোখি হল, আর সেই এক মুহূর্তেই যেন সব অব্যক্ত কথা, সব লুকানো আবেগ প্রকাশ পেল। আমি অনুভব করলাম, তাদের মধ্যে যা ঘটছিল, তা যেন ঠিক একটা ‘steamy neighbor affair short story’-এর পাতা থেকে উঠে আসা।

আমি ধীরে ধীরে ওর হাতের ওপর নিজের হাতটা রাখলাম। আরিয়া আমার দিকে তাকাল, তার ঠোঁটে এক মৃদু হাসি। আমি ওর মুখটা কাছে টেনে নিলাম, আর আমাদের ঠোঁটগুলো একে অপরের সাথে মিশে গেল। নরম, উষ্ণ আর আবেগময় এক চুম্বন। সেই চুম্বনে যেন বৃষ্টির ঠান্ডা, কফির উষ্ণতা আর আমাদের দুজনের সমস্ত অব্যক্ত ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। এই মুহূর্তটাই যেন ছিল এক নতুন শুরুর ইঙ্গিত। তাদের এই লুকানো আবেগ, এই ‘steamy neighbor affair short story’, কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা সময়ই বলবে। কিন্তু সেই সন্ধ্যায়, বৃষ্টির মাঝে, তারা দুজনেই জানত, তাদের জীবন আর কখনোই আগের মতো থাকবে না।


Posted

in

by

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *