🔞 18+ Adult Content: Strictly for Adults Only. Free Desi Romance & Erotic Novels.

বৌদিদি Story 8 in Bengali

Text Size:

আকাশে তখন শেষ বিকেলের লালচে আভা। হালকা একটা বাতাস বয়ে যাচ্ছিল, যা বকুল ফুলের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছিল চারিপাশে। সুমিত জানালার ধারে বসে ছিল, বাইরে তাকিয়ে। কিন্তু তার মন ছিল অন্য কোথাও। আজ অনেকদিন পর অর্পিতা আসছে ওদের বাড়িতে। অর্পিতা, ওর ছোটবেলার বন্ধু, ওর প্রথম ভালোবাসা। যদিও তাদের প্রেমটা কখনোই পূর্ণতা পায়নি, তবুও অর্পিতার জন্য সুমিতের মনে একটা বিশেষ জায়গা সবসময়ই ছিল।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে সুমিতের তন্দ্রা ভাঙল। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠল। এই তো সেই পরিচিত শব্দ। দরজা খুলে দিতেই সামনে দাঁড়িয়ে অর্পিতা। সময়ের সাথে সাথে অর্পিতাকে যেন আরও সুন্দর, আরও মোহময়ী লাগছে। তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত লাবণ্য, যা সুমিতকে মুহূর্তেই সম্মোহিত করে ফেলল। অর্পিতার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি, যা সুমিতের হৃদয়ে এক নতুন স্পন্দন জাগিয়ে তুলল।

“কেমন আছিস সুমিত?” অর্পিতার গলাটা যেন আজও সেই আগের মতোই মিষ্টি।

“ভালো। তুই কেমন আছিস?” সুমিতের গলাটা একটু কেঁপে উঠল।

ভেতরে এসে অর্পিতা বসল সোফায়। সুমিতও গিয়ে বসল ওর পাশে। দুজনের মধ্যে একটা নীরবতা। এই নীরবতাটা ভারী, কিন্তু কোনো অস্বস্তিকর নয়। বরং এই নীরবতায় মিশে আছে অনেক না বলা কথা, অনেক পুরনো স্মৃতি। অর্পিতার শরীরের হালকা পারফিউমের গন্ধ সুমিতের নাকে এসে লাগল, যা ওকে আরও বেশি আচ্ছন্ন করে ফেলল।

“আজকাল খুব ব্যস্ত থাকিস নিশ্চয়ই?” অর্পিতা কথা শুরু করল।

“হ্যাঁ, একটু। তবে তোর আসার খবর পেয়ে সব কাজ ছেড়ে দিলাম,” সুমিত হেসে বলল।

এই হাসিটা ছিল আন্তরিক, যেখানে মিশে ছিল অনেকদিনের চাপা অনুভূতি। অর্পিতার চোখ সুমিতের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখের তারায় যেন অনেক কথার ভিড়। তাদের মধ্যে আবার সেই পুরনো সময়ের মতো একটা টান অনুভব করল দুজনেই। এই টানটা শারীরিক নয়, তার চেয়েও বেশি গভীর, যা আত্মাকে স্পর্শ করে।

“আমি জানতাম তুই আসবে,” অর্পিতা ফিসফিস করে বলল, “আমার মন বলছিল।”

সুমিত অর্পিতার দিকে আরও একটু এগিয়ে এল। অর্পিতার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা ওর গালে এসে লাগল। একটা শিহরণ খেলে গেল সুমিতের সারা শরীরে। অর্পিতার হাতটা আলতো করে স্পর্শ করল সুমিতের হাত। সেই স্পর্শে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। অর্পিতার আঙুলগুলো সুমিতের আঙুলের সাথে জড়িয়ে গেল।

“অনেকদিন পর তোকে এভাবে কাছে পেলাম,” সুমিতের গলার স্বর এবার আরও গভীর।

“আমারও তাই মনে হচ্ছে,” অর্পিতা মৃদুস্বরে উত্তর দিল।

তাদের দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হতে লাগল। একে অপরের চোখের গভীরে হারিয়ে গেল তারা। সময় যেন থমকে গেছে। চারপাশের সবকিছু নিস্তব্ধ। শুধু ওদের দুজনের হৃদস্পন্দন আর একে অপরের সান্নিধ্যের উষ্ণতা। সুমিত আলতো করে অর্পিতার মুখটা নিজের দিকে ফেরাল। অর্পিতার চোখের পাতায় লেগে থাকা দীর্ঘ পাপড়িগুলো কাঁপছে।

সুমিতের ঠোঁট অর্পিতার ঠোঁটের কাছে এগিয়ে এল। এক নরম, আলতো স্পর্শ। সেই স্পর্শে মিশে ছিল দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অব্যক্ত ভালোবাসা। অর্পিতার ঠোঁটও যেন সাড়া দিল। তাদের চুম্বন গভীর হতে লাগল। এই চুম্বন শুধু শরীরের নয়, এ যেন দুই আত্মার মিলন। সুমিতের বাহু অর্পিতাকে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। অর্পিতার হাত সুমিতের চুলের মধ্যে ডুবে গেল।

তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে যেতে লাগল। প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি চুম্বনে যেন নতুন করে একে অপরের প্রেমে পড়ছে তারা। বাইরে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে, কিন্তু তাদের দুজনের মনে তখন ভালোবাসার এক নতুন সূর্যোদয়। এই রাতটা শুধু তাদের। এই রাতটা তাদের পুরনো ভালোবাসা আর নতুন অনুভূতির সাক্ষী হয়ে থাকবে।