🔞 18+ Adult Content: Strictly for Adults Only. Free Desi Romance & Erotic Novels.

মামীমা Story 12 in Bengali

Text Size:

বাইরে তখন গভীর রাত। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল, জানলার কাঁচ বেয়ে জলের ফোঁটাগুলো নেমে এসে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছিল। ঘরে আবছা আলো, শুধু টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে। সেই আলোয় অনন্যা বই পড়ছিল, কিন্তু মনটা স্থির ছিল না। একটু আগেই ওদের দেখা হয়েছিল। যদিও দেখা হওয়া বলা চলে না, এক অদ্ভুত মুহূর্তের মধ্যে দুজনে একে অপরের খুব কাছে চলে এসেছিল।

অনন্যার বয়স তিরিশের কোঠায়, কিন্তু তার সৌন্দর্য তখনও টগবগে যৌবনের উপচে পড়া ধারা। লম্বা, ঘন চুল কাঁধ বেয়ে নামে, গভীর কালো চোখ দুটো যেন রহস্যময় কাজল টানা। আর ওদিকে অর্ণব, অনন্যার ছোট ভাইয়ের বন্ধু। প্রায় পাঁচ বছরের ছোট অর্ণব, কিন্তু তার শারীরিক গঠন এবং তার দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস অনন্যাকে সবসময় একটু অন্যরকম অনুভব করিয়েছে।

আজ কী হয়েছিল কে জানে! আজ সন্ধ্যায় অর্ণব হঠাৎ চলে এসেছিল ওদের বাড়ি। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিল ও। অনন্যা তাড়াতাড়ি গিয়ে একটা তোয়ালে এনে দিয়েছিল। অর্ণবের ভেজা চুল থেকে জল ঝরছিল, তার শরীরে সাঁটানো জামা যেন তার পেশীবহুল দেহের আকৃতি আরও স্পষ্ট করে তুলছিল। অনন্যা মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। অর্ণব তার দিকে একটু অন্যরকম চোখে তাকিয়ে ছিল, সেই দৃষ্টিতে ছিল এক অনিঃশেষ আগ্রহ এবং এক গভীর আকর্ষণ। কথা বলতে গিয়ে অর্ণবের কণ্ঠস্বর একটু কেঁপে গিয়েছিল, “ধন্যবাদ অনন্যা দি।” কিন্তু “দি” শব্দটা যেন তার মুখ থেকে বেরোতে চায়নি।

অনন্যা হঠাৎ করে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছিল। অর্ণবের সেই দৃষ্টি, তার কণ্ঠস্বরের সেই কম্পন সবকিছু যেন অনন্যার ভেতরটাকে কেমন ওলোটপালোট করে দিয়েছিল। ও কখনো এমন অনুভব করেনি। তার স্বামী অরিন্দম তাকে ভালোবাসে, কিন্তু এই ভালোবাসাটা ছিল ভিন্ন। এই অনুভূতিটা ছিল এক নিষিদ্ধ আকর্ষণ, এক গভীর কামনা যা এতদিন ধরে লুকানো ছিল তার মনের গভীরে।

হঠাৎ দরজায় টুকটুক শব্দ হল। অনন্যা চমকে উঠল। এত রাতে কে? তার বুক আরও দ্রুত ধুকপুক করতে শুরু করল। ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করল, “কে?”

বাইরে থেকে পুরুষালী কণ্ঠস্বর এল, “আমি অর্ণব।”

অনন্যার শরীর অবশ হয়ে এল। কী করবে ও? এই মুহূর্তে অর্ণব কেন এসেছে? তার মনে হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু মনের এক গভীর অংশ যেন তার দরজা খোলার জন্য অধীর হয়ে ছিল। সে ধীর পায়ে গিয়ে দরজা খুলল। অর্ণব বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, তার চোখ দুটো যেন আরও বেশি আগুনে জ্বলছিল। বৃষ্টির জল তার চুলে লেগে ছিল, তার কালো টি-শার্ট তার শরীরের সঙ্গে লেগে ছিল। অনন্যা মুহূর্তের জন্য তার দিকের নজর সরাতে পারল না। অর্ণবের গায়ে বৃষ্টির জল লেগে ছিল আর তার নিঃশ্বাসের গরম হাওয়া অনন্যার মুখে লাগে যেন তার শরীরের মধ্যে দিয়ে এক বিদ্যুৎ প্রবাহ বয়ে গেল।

অর্ণব ধীর পায়ে ঘরে ঢুকল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ঘরের মাঝে দুজনে দাঁড়িয়ে ছিল, এক অদ্ভুত নীরবতা তাদের মাঝে। বৃষ্টির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ ছিল না। অর্ণব ধীর কণ্ঠে বলল, “আমি জানতাম আপনি একা থাকবেন।” তার কণ্ঠস্বরে ছিল এক অদম্য আবেদন। অনন্যা কিছু বলতে পারল না। তার শরীর যেন তার কথা শুনছিল না। অর্ণব ধীরে ধীরে অনন্যার দিকে এগিয়ে এল। তার চোখ অনন্যার চোখের দিকে স্থির। অনন্যা অনুভব করল তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। অর্ণব তার খুব কাছে এসে থেমে গেল। তাদের মাঝে মাত্র এক ইঞ্চি দূরত্ব। অনন্যা অর্ণবের গভীর নিঃশ্বাসের উষ্ণতা অনুভব করতে পারছিল। অর্ণবের চোখে ছিল এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা, যা অনন্যাকে আরও বেশি আকর্ষণ করছিল। অর্ণবের হাত ধীরে ধীরে অনন্যার মুখের দিকে এগিয়ে এল। তার আঙ্গুলের স্পর্শ অনন্যার গালের উপর পড়তেই অনন্যা চমকে উঠল, কিন্তু সে নিজেকে সরিয়ে নিল না। অর্ণবের স্পর্শে ছিল এক অদ্ভুত উষ্ণতা, যা অনন্যার রক্তে যেন আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। অর্ণব ধীরে ধীরে অনন্যার চুলের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তার মুখ নিজের দিকে টেনে নিল। অনন্যার চোখ বন্ধ হয়ে এল। তাদের ঠোঁট একে অপরের স্পর্শ করল। প্রথম স্পর্শ ছিল এক মৃদু আলিঙ্গন, তারপর তা গভীর হতে শুরু করল। বৃষ্টির শব্দ যেন তাদের প্রেমের সঙ্গীত হয়ে বাজছিল। অনন্যার শরীরে যেন নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হচ্ছিল। সে অর্ণবের গলায় হাত রাখল। অর্ণবের শরীর আরও বেশি শক্ত হয়ে উঠল। এই মুহূর্তটা ছিল তাদের জন্য এক নতুন সূচনা, এক নিষিদ্ধ প্রেমের প্রথম পদক্ষেপ।