দিদি ভাই Story 6 in Bengali
সে এক শরতের পড়ন্ত বিকেল। সোনা রোদ পড়েছে বারান্দায়, হলদেটে আলোয় ভেসে যাচ্ছে সব। রমা, বয়স পঁচিশ, সদ্য বিবাহিত। স্বামীর কর্মসূত্রে অন্য শহরে থাকা, তাই এই কটা দিন বাপের বাড়িতেই এসেছে। এক চিলতে বারান্দায় বসে সে বই পড়ছে, কিন্তু মন তার উড়ছে অন্য কোথাও। হাতে ধরা বইয়ের পাতায় চোখ থাকলেও, সে আসলে অনুভব করছে নিজের শরীরের প্রতিটি স্পন্দন। আজ কটা দিন ধরে তার মনের ভেতরটা কেমন যেন করছে। এক অদ্ভুত অস্থিরতা, এক অব্যক্ত ইচ্ছা, যা সে কিছুতেই দমন করতে পারছে না।
হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে ভেসে এল এক পরিচিত গলা। "রমা? কি করছিস?"
রমা চমকে তাকাল। অরিন্দম, তার একমাত্র ভাই। দু'বছরের ছোট। ছোটবেলা থেকে দু'জনের মধ্যে ছিল অগাধ ভালোবাসা, কিন্তু আজ এই মুহূর্তে, অরিন্দমের গলার স্বর শুনে রমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে জানে, অরিন্দম এই সময় বাড়িতে থাকার কথা নয়। ওর তো আজ এক বন্ধুর বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল।
“অরিন্দম? তুই? কখন এলি?” রমা বইটা রেখে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তার গলার স্বর সামান্য কাঁপছে।
অরিন্দম ঘরে ঢুকল। পরনে জিন্স আর টি-শার্ট। ওর চোখেমুখে সেই চিরচেনা দুষ্টুমি, কিন্তু আজ রমার কাছে সেটা অন্যরকম লাগছিল। ওর যেন মনে হচ্ছে, অরিন্দমের চোখে এক অন্য আভা। কিছুক্ষণের জন্য দু'জনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। অরিন্দমের দৃষ্টি রমার ওপর স্থির। ওর সরু কোমর, শাড়ির আঁচলের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া ব্লাউজের ফিতে, আর খোলা চুল—সবকিছুই যেন অরিন্দমকে সম্মোহিত করছে। রমাও অনুভব করছে অরিন্দমের দৃষ্টির উষ্ণতা।
“আরে, কি ব্যাপার? কেমন হয়ে গেলি? বন্ধুর বিয়েটা ক্যান্সেল হয়ে গেল,” অরিন্দম এগিয়ে এসে রমার সামনে দাঁড়াল। ওর হাতটা আলতো করে রমার গালে ঠেকল।
রমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল। অরিন্দমের স্পর্শে সে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হল। ছোট ভাই, অথচ আজ এই স্পর্শে কেন এত অচেনা, এত তীব্র অনুভূতি? সে চোখ নামিয়ে নিল। অরিন্দম ওর ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর মনে হচ্ছে, রমার ঠোঁট দুটো যেন একটু ফুলে উঠেছে, আরও আবেদনময়ী লাগছে।
“তুই কি কিছু বলবি না?” অরিন্দম ফিসফিস করে বলল। ওর নিশ্বাস রমার মুখে এসে লাগছে।
রমা কিছু বলতে পারল না। ওর শরীর যেন নিজের বশে নেই। সে শুধু অনুভব করছে অরিন্দমের উষ্ণ শ্বাস, ওর শরীরের গন্ধ, আর নিজের ভেতরের তোলপাড়। অরিন্দমের হাতটা আরও একটু সরে রমার গলার কাছে এল। ওর আঙুলের স্পর্শে রমার শরীর কেঁপে উঠল।
“রমা…” অরিন্দম আবার ডাকল, এবার ওর গলায় যেন এক গভীর আকুতি। ওর আঙুলগুলো আলতো করে রমার গলা বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল। রমার মনে হল, এই প্রথম সে অরিন্দমের শরীরের এত কাছাকাছি এল। অরিন্দমের পেশীবহুল বাহু, ওর শরীরের উষ্ণতা—সবকিছুই যেন রমাকে গ্রাস করছে।
রমা চোখ বন্ধ করল। সে জানে এটা ঠিক নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে তার সব যুক্তি, সব ভাবনা যেন হারিয়ে গেছে। অরিন্দমের আঙুল রমার শাড়ির ভাঁজে ঢুকে গেল, ওর নরম ত্বকের স্পর্শ পেয়ে অরিন্দমের শরীরে যেন আগুন জ্বলে উঠল। সে রমাকে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। রমার ঠোঁট দুটো কাঁপছে।
“আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, রমা,” অরিন্দম ফিসফিস করে বলল। ওর গলার স্বর ভারি হয়ে এসেছে। “তোকে ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না।”
রমা চোখ খুলল। অরিন্দমের চোখে সে দেখল এক গভীর, তীব্র ভালোবাসা, যা সে ছোটবেলা থেকে চিনত, কিন্তু আজ এই রূপে তা সম্পূর্ণ নতুন। অরিন্দমের চোখে জল। রমা আলতো করে ওর গাল স্পর্শ করল।
“অরিন্দম…” রমার গলা দিয়ে শুধু এইটুকুই বের হল।
অরিন্দম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে রমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। রমার ঠোঁটে ওর ঠোঁট নেমে এল। প্রথম স্পর্শটা ছিল নরম, তারপর ধীরে ধীরে তা গভীর থেকে গভীরতর হল। দু'জনের শরীরের উত্তাপ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। রমা অনুভব করল অরিন্দমের শরীরের প্রতিটি পেশীর উত্তেজনা, ওর গভীর শ্বাস, আর নিজের ভেতরের এক অভূতপূর্ব আনন্দের স্রোত। সেও অরিন্দমের বাহুডোরে নিজেকে সঁপে দিল। এই মুহূর্তের সবটুকু আবেগ, সবটুকু আকুতি যেন এই চুম্বনেই প্রকাশ পেল। বাইরে পড়ন্ত বেলার সোনা রোদ, আর ভেতরে দুটি মানুষের এক নতুন, তীব্র অনুভূতির জন্ম হল, যা ছিল কেবলই তাদের দুজনের।