পরকীয়া Story 11 in Bengali
আকাশে তখন ঘন মেঘ। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে ছিল রিয়া। তার শাড়িটা একটু ভিজে গেছে বৃষ্টির ছাঁটে। ভেজা চুলগুলো মুখের ওপর এসে পড়ছে। আচমকাই তার মনে পড়ল, আজ অভির জন্মদিন। গত দু’বছর ধরে এই বিশেষ দিনে সে অভির জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু আজ… আজ এক অন্যরকম অনুভূতি। বুকের ভেতরটা কেমন চিনচিন করছে। এই চিনচিনে ব্যথাটা কি কেবলই বিরহের, নাকি অন্য কিছুর?
অভির সাথে রিয়ার পরিচয়টা প্রায় পাঁচ বছরের। প্রথম দেখা কলেজ ফেস্টে। সেদিনের সেই প্রথম দেখাতেই রিয়ার মনে হয়েছিল, এই মানুষটাকে সে চেনে। কেমন একটা টান, কেমন একটা আকর্ষণ। তারপর সেভাবেই বন্ধুত্ব, প্রেম। কিন্তু নিয়তি বোধহয় তাদের একসাথে থাকতে দেয়নি। অভির পরিবার খুব রক্ষণশীল। তাদের প্রেমের কথা জানতে পেরেই তারা অভির বিয়ে ঠিক করে ফেলে। অন্য এক মেয়ের সাথে। রিয়া আজও মনে করতে পারে, অভির সেই ভাঙা গলা, “রিয়া, আমি জানি না কী করব। বাবা-মা কিছুতেই মানবেন না।”
সেই থেকে তাদের দূরত্ব। দেখা হয় না, কথা হয় না। শুধু এই বিশেষ দিনে, অভির জন্মদিনে, রিয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ওর কথা ভাবে। বৃষ্টি নামলে মনে হয়, অভিরও আজ মন খারাপ। কিন্তু সত্যিটা কি তাই? রিয়া কি কেবলই অভির স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছে?
হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। রিয়া চমকে উঠল। এত রাতে কে আসবে? মনে একটু ভয়ও লাগল। কিন্তু কড়া নাড়ার শব্দটা থামল না। এবার রিয়া একটু সাহস জুগিয়ে এগিয়ে গেল। দরজা খুলে যা দেখল, তাতে তার নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে অভি। তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আলো। হাতে একটা লাল গোলাপ।
“তুমি… তুমি এখানে?” রিয়া ফিসফিস করে বলল।
অভির ঠোঁটে এক চিলতে হাসি। “তোমার জন্মদিনটা কেমন কাটছে, রিয়া?”
রিয়ার মনে হল, সে স্বপ্ন দেখছে। “আমার জন্মদিন? আজ তো তোমার জন্মদিন, অভি।”
“আজ আমার জন্মদিন, এটা সত্যি। কিন্তু তোমার জন্মদিনটা কবে, জানো? তোমার জন্মদিনটা আমার জানা। আর তাই আজ আমি তোমার কাছে এসেছি।” অভির গলার স্বর ভারী হয়ে এল।
রিয়া কিছু বলতে পারল না। শুধু তাকিয়ে রইল অভির দিকে। অভির চোখেও সেই আগের টান। সেই একই ভালোবাসা।
“এসো ভেতরে,” রিয়া আস্তে করে বলল।
অভি ভেতরে এসে দাঁড়াল। বৃষ্টির জল ওর চুলে লেগে আছে। ভেজা শার্টটা শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। রিয়া সেদিকে তাকিয়ে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেল। এই মানুষটা… এই মানুষটার জন্য সে কী না করেছে!
“তোমার কি ঠান্ডা লাগছে?” রিয়া জিজ্ঞেস করল।
“একটু। কিন্তু তোমার কাছে এসে সব ঠান্ডা উধাও হয়ে গেছে,” অভি বলল। ওর চোখ রিয়ার মুখের ওপর স্থির।
রিয়ার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। অভির এই চাহনিটা যেন ওকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। “আমি… আমি চা করে দিই?”
“না,” অভি রিয়ার হাত ধরে ফেলল। “আজ চা খেতে আসিনি।”
রিয়ার হার্টবিট বেড়ে গেল। অভির স্পর্শে তার সারা শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল। “তাহলে?”
“তাহলে… আজ আমি এসেছি আমার সব হিসেব চুকিয়ে নিতে। আর তোমাকে আমার করে নিতে।” অভির অন্য হাতটা রিয়ার মুখে এসে লাগল। আলতো করে ওর চিবুকটা ধরে উপরে তুলল।
রিয়া চোখ বন্ধ করল। অভির নিশ্বাস তার মুখে এসে লাগছে। সেই পরিচিত, সেই প্রিয় গন্ধ।
“আমি জানতাম, তুমি আসবে,” রিয়া ফিসফিস করে বলল।
“আমার আসা ছাড়া উপায় ছিল না, রিয়া। গত দু’বছর ধরে আমি প্রতি মুহূর্তে তোমাকেই চেয়েছি। আমার স্ত্রী… সে ভালো। কিন্তু সে তুমি নও। আমার জীবনে তুমি ছাড়া অন্য কেউ নেই,” অভির গলার স্বর কাঁপছিল। “আমি সব ছেড়ে এসেছি, রিয়া। শুধু তোমাকে চেয়েছি।”
অভি রিয়াকে নিজের দিকে টেনে নিল। তার উষ্ণ শরীর রিয়ার শরীরের সাথে মিশে গেল। বৃষ্টির শব্দ আর রিয়ার হৃদস্পন্দন যেন এক হয়ে মিশে যাচ্ছিল। অভির ঠোঁট রিয়ার ঠোঁটের উপর নেমে এল। সেই প্রথম স্পর্শ। সেই প্রথম চুম্বনের অনুভূতি। আজ যেন তার থেকেও হাজার গুণ বেশি তীব্র। প্রতিটি ছোঁয়ায়, প্রতিটি আলিঙ্গনে যেন তাদের সব না বলা কথা, সব অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাচ্ছিল। অভির হাত রিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরল। রিয়াও দু’হাতে অভির গলা জড়িয়ে ধরল। তাদের চুম্বনের গভীরতা বাড়তেই লাগল। বৃষ্টির শব্দ যেন তাদের ভালোবাসারই প্রতিধ্বনি হয়ে বাজছিল। এই পরকীয়ার রাত, যেন তাদের হারানো ভালোবাসাকে ফিরে পাওয়ার এক নতুন সূচনা।