🔞 18+ Adult Content: Strictly for Adults Only. Free Desi Romance & Erotic Novels.

পরকীয়া Story 3 in Bengali

Text Size:

নীলিমা আর অর্কর দেখা হয়েছিল এক বর্ষার দিনে। বৃষ্টি তখনও ঝরছে, আর সেই ভেজা গন্ধ মাখা হাওয়ায় যেন এক নতুন সুর বেজে উঠেছিল তাদের মনে। নীলিমা বিবাহিত, শান্তini, নিজের জগতে সুখ খুঁজে নেওয়া একজন নারী। অর্কও তাই, তবে তার জীবনে হয়তো সবটা ঠিকঠাক চলছিল না। এক সাহিত্যসভায় পরিচয়, তারপর কিছু অগোছালো কথার আদানপ্রদান। সেই শুরু।

প্রথমদিকে শুধু বন্ধুত্বের হাতছানি ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে, একে অপরের সান্নিধ্যে, এক অচেনা টান অনুভব করতে শুরু করল তারা। নীলিমার জীবনে ছিল এক নিয়মের বাঁধন, যেখানে আবেগ বা উচ্ছ্বাসের বড় জায়গা ছিল না। কিন্তু অর্কর উপস্থিতি তার সেই শান্ত জীবনে এক দমকা হাওয়ার মতো এসে লাগল। অর্কর চোখেমুখে ছিল এক অন্যরকম সারল্য, যা নীলিমার হৃদয় স্পর্শ করেছিল। সে দেখত, অর্কর কথায়, হাসিতে, এমনকি নীরবতায়ও এক গভীরতা আছে।

একদিন, এক সাহিত্যসভার পর, অর্ক নীলিমাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিতে এসেছিল। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো তখনও জানলার কাঁচ বেয়ে নামছিল। গাড়ির ভেতরটা উষ্ণ আর নিবিড়। অর্ক স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখেছিল, আর নীলিমা জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ অর্ক বলল, "বৃষ্টিটা আজ খুব বেশি।"

নীলিমা মৃদু হেসে বলল, "হ্যাঁ, অনেক দিন পর এমন বৃষ্টি।"

কথাটা সেখানেই শেষ হল না। অর্ক নীলিমার দিকে তাকাল। সেই চাহনিতে ছিল এক অব্যক্ত প্রশ্ন, এক গোপন জিজ্ঞাসা। নীলিমাও তাকাল অর্কর চোখে। সেখানে সে খুঁজে পেল নিজেরই এক প্রতিচ্ছবি, এক অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা। সেই মুহূর্তে, গাড়ির ভেতরের নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। বৃষ্টির শব্দ, ইঞ্জিনের মৃদু গুঞ্জন – সবকিছুর মধ্যে এক অন্যরকম স্পন্দন। নীলিমা অনুভব করল, তার হৃদপিণ্ড দ্রুত লয়ে স্পন্দিত হচ্ছে। অর্কর উপস্থিতি তাকে এক অচেনা রোমাঞ্চে ভরিয়ে দিচ্ছিল।

সেদিন রাতে, বাড়ি ফেরার পর, নীলিমা বিছানায় শুয়েও শান্তি পাচ্ছিল না। অর্কর মুখটা তার চোখের সামনে ভাসছিল। তার স্পর্শ, তার কথা, তার চাহনি – সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। সে কি করছে? এই অনুভূতি কি ঠিক? এই প্রশ্নগুলো তার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল, কিন্তু উত্তর খুঁজে পাচ্ছিল না। সে জানত, এটা ভুল। কিন্তু মন মানছিল না। অর্কর প্রতি তার এই টান, এই আকর্ষণ – এ যেন এক নিষিদ্ধ ফল, যা তাকে বারে বারে হাতছানি দিচ্ছে।

পরের কয়েকদিন ছিল এক ঘোর লাগা সময়। অর্কর সাথে দেখা প্রায় রোজই হত। কখনও সাহিত্যসভায়, কখনও বা হঠাৎ দেখা। প্রত্যেকবার, অর্কর সান্নিধ্য নীলিমাকে এক নতুন অনুভূতির জগতে নিয়ে যেত। তার হাসি, তার কথা, তার স্পর্শ – সবকিছুতেই ছিল এক মাদকতা। অর্কও যেন নীলিমার মধ্যে এক নতুন প্রাণ খুঁজে পেয়েছিল। নীলিমার শান্ত, স্নিগ্ধ রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক গভীর আবেগ সে দেখতে পেত।

এক সন্ধ্যায়, অর্ক নীলিমাকে একটি নিরিবিলি ক্যাফেতে দেখা করতে বলল। বৃষ্টির রাত ছিল সেদিনও। ক্যাফের ভেতরটা হালকা আলোয় আলোকিত, আর বাইরে ঠান্ডা হাওয়া। তারা মুখোমুখি বসল। অর্ক নীলিমার হাতের উপর নিজের হাত রাখল। সেই স্পর্শে ছিল উষ্ণতা, ছিল এক গভীর আকুলতা। নীলিমা চমকে উঠল, কিন্তু হাত সরিয়ে নিল না। অর্কর চোখগুলো যেন কথা বলছিল। সেখানে ছিল অনেক না বলা কথা, অনেক অব্যক্ত অনুভূতি।

অর্ক বলল, "নীলিমা, আমি জানি এটা ঠিক নয়। কিন্তু আমি আর নিজেকে আটকাতে পারছি না।"

নীলিমা অর্কর দিকে তাকিয়ে রইল। তার নিজেরও একই অবস্থা। হৃদয়ের গভীরে এক ঝড় বইছে। সে জানে, এই পথে হাঁটা মানে অনেক বড় ঝুঁকি, অনেক বড় বিপদ। কিন্তু অর্কর চোখের দিকে তাকিয়ে, তার হাতের উষ্ণতা অনুভব করে, সে নিজেকে আর আটকাতে পারল না। সেও অর্কর হাতটা আরও শক্ত করে ধরল। তাদের দুজনের দৃষ্টি বিনিময় হল। সেই দৃষ্টিতে ছিল এক গভীর ভালোবাসা, এক তীব্র আকর্ষণ, আর এক অজানা ভবিষ্যতের হাতছানি। সেই মুহূর্তে, পৃথিবীর সব নিয়ম, সব বাধা যেন অর্থহীন হয়ে গেল। তারা দুজন একে অপরের মধ্যে নিজেদের হারিয়ে ফেলল, এক নতুন, নিষিদ্ধ পৃথিবীর গভীরে। সেই রাতে, বৃষ্টির শব্দ ছাপিয়ে, তাদের হৃদয়ের স্পন্দন এক নতুন গান গেয়ে উঠল, এক গভীর, গোপন প্রেমের গান।